আর্কাইভ
ads
logo

'রোম পুড়লে আমরা নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না'

জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ পি.এম
'রোম পুড়লে আমরা নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না'

জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ads

স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংকটের সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়াই তাদের অগ্রাধিকার। “রোম পুড়লে নিরো হয়ে বাঁশি বাজাবো না”—এ মন্তব্যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে জানতে চাওয়া হয়েছিল হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা রয়েছে কি না—উত্তরে বলা হয়েছে আছে। তবে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার পর্যবেক্ষণ, অধিকাংশ স্থানে আইসিইউ কার্যত নেই। তিনি বলেন, “আইসিইউ চালাতে প্রশিক্ষিত ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ দরকার, সেই ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। খাতায়-কলমে যা আছে, বাস্তবেও তা নিশ্চিত করতে হবে।”

পুরো স্বাস্থ্যখাতকে ‘ডিজাস্টার’ আখ্যা দিয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরেন। তার ভাষায়, সেখানে রোগীর চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেটিকে হাসপাতালের চেয়ে বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তিনি বলেন, ১ হাজার শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৭শ রোগী, আর প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৪ হাজার মানুষ। কিন্তু সেই তুলনায় জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেই। তার মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্নীতির কারণেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, “সুশিক্ষা থাকলে একটা জ্ঞানী জাতি গড়ে উঠবে। আর যদি জনস্বাস্থ্য ঠিক থাকে তাহলে একটা সুস্থ সবল জাতি পাবো। তখন দেশটাকে মনের মতো করে গড়া যাবে। ইমার্জেন্সি যখন আসে তখন স্বাভাবিক কাজ কাম কিছুটা স্থগিত করে দিতে হয়। সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে এই দিকেই সবকিছু মনযোগ দিতে হয়। সংসদে সরকারি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন তখন আমাদের দেশের তেমন কোনো সমস্যা খুঁজে পাই না। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে যখন যাই দেখি আমরা সমস্যার পাহাড় জমে আছে।”

এদিকে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় একটি তেলের পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি সংকট নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সংকটের বাস্তব চিত্র গোপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পাম্পগুলো চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পাচ্ছে, যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যারা তেল পান না। সংকট হলে সবাই মিলে নিরসনের চেষ্টা করা হবে।”


ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ